আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য
---Advertisement---

আর নয় ঘামের দুর্গন্ধ! ত্বক ফর্সা ও ফ্রেশ রাখতে কার্যকর ৫ টিপস

Published on: February 6, 2026
---Advertisement---

JKNews24 Disk: গরমের দিনে বা একটু পরিশ্রম করলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই ঘাম থেকে দুর্গন্ধ আসতে শুরু করে এবং ত্বক কালো হয়ে যায়, তখন সেটা সত্যিই বিব্রতকর হয়ে উঠতে পারে। অফিসে মিটিংয়ে, বন্ধুদের সাথে আড্ডায়, বা কারো সাথে কথা বলার সময়—ঘামের দুর্গন্ধ আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

PharmEasy এবং NIVEA India-এর মতে, ঘামের দুর্গন্ধ হয় যখন আমাদের ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের ফ্যাট, সল্ট এবং পানির সাথে মিশে যায়। তবে চিন্তা নেই—প্রাকৃতিক কিছু উপায় মেনে চললেই এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়, এবং ত্বকও হয়ে উঠতে পারে উজ্জ্বল।

১. লেবু: প্রকৃতির সেরা ডিওডোরেন্ট

Medindia এবং Practo-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবু ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং ত্বকের pH লেভেল ব্যালান্স করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

সরাসরি প্রয়োগ: একটা লেবু দুই টুকরো করে কেটে সরাসরি বগলে ঘষে নিন। ১০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

বেকিং সোডার সাথে: লেবুর রস এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। গোসলের আগে বগলে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। Medindia বলছে, এই মিশ্রণ দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধের জন্য খুবই কার্যকর।

ত্বক উজ্জ্বল করতে: লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহারে বগলের কালো দাগ এবং হাঁটুর কালোভাব কমে।

সতর্কতা: শেভ করার পরপরই লেবু ব্যবহার করবেন না—জ্বালা করতে পারে।

২. টি ট্রি অয়েল: অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল পাওয়ার

Netmeds এবং Medindia-র তথ্য অনুযায়ী, টি ট্রি অয়েল একটি শক্তিশালী অ্যান্টিসেপটিক যা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক মেরে ফেলে। এর মিষ্টি গন্ধ প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট হিসেবে কাজ করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

২ চা-চামচ টি ট্রি অয়েল সমান পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে নিন। প্রতিদিন গোসলের পর বগল, পা এবং অন্যান্য ঘামযুক্ত জায়গায় স্প্রে করুন। এটা ত্বকে মৃদু এবং সংবেদনশীল অংশেও ব্যবহার করা যায়।

৩. অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার: pH ব্যালেন্সার

PharmEasy এবং Tata 1mg-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার (ACV) শরীর থেকে টক্সিন বের করে এবং ত্বকের অ্যাসিডিক ব্যালেন্স ঠিক রাখে—যা ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

বাহ্যিক ব্যবহার: কটন প্যাডে ACV নিয়ে বগল, পা এবং অন্যান্য ঘামযুক্ত অংশে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন বা সারারাত রেখে দিতে পারেন।

গোসলের পানিতে মিশিয়ে: এক কাপ ACV বালতির পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন—পুরো শরীর ডিওডোরাইজড হবে।

ত্বক উজ্জ্বল করতে: ACV ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং রঙ উজ্জ্বল করে। দাগ এবং পিগমেন্টেশন কমায়।

৪. বেকিং সোডা: আর্দ্রতা শোষক

Sanova Dermatology এবং Practo-র ডাক্তাররা বলছেন, বেকিং সোডা ত্বক থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয় এবং ত্বকের প্রাকৃতিক অ্যাসিড ব্যালেন্স করে—যা দুর্গন্ধ কমায়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

সরাসরি প্রয়োগ: সামান্য পানি দিয়ে বেকিং সোডার পেস্ট তৈরি করে বগলে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

কর্নস্টার্চের সাথে: সমান পরিমাণ বেকিং সোডা এবং কর্নস্টার্চ মিশিয়ে প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট তৈরি করুন। গোসলের পর শুকনো বগলে লাগান।

ত্বক উজ্জ্বল করতে: বেকিং সোডা মৃদু এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করলে ত্বক নরম এবং উজ্জ্বল হয়।

৫. টমেটো জুস: পোরস টাইটেনার

Netmeds এবং Practo-র মতে, টমেটোতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কমায় এবং অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

বাহ্যিক ব্যবহার: একটা কাপড় টমেটো জুসে ভিজিয়ে বগল, পা এবং অন্যান্য ঘামযুক্ত অংশে লাগান। এটা ত্বকের পোরস বন্ধ করে এবং ঘাম কমায়।

পান করুন: প্রতিদিন এক গ্লাস টমেটো জুস পান করলে শরীরের তাপমাত্রা কমে এবং ঘাম কম হয়।

ত্বক উজ্জ্বল করতে: টমেটোতে থাকা ভিটামিন সি এবং লাইকোপিন প্রাকৃতিক ত্বক উজ্জ্বলকারী। নিয়মিত ব্যবহারে ট্যান এবং পিগমেন্টেশন কমে।

অতিরিক্ত টিপস: দুর্গন্ধ এবং কালো ত্বক থেকে মুক্তির জন্য

নিয়মিত গোসল করুন

Dettol এবং Thompson Tee-র মতে, দিনে অন্তত একবার গোসল করা জরুরি—বিশেষ করে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের পর। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন এবং বগল, পা, এবং কুঁচকি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন

Tata 1mg সতর্ক করছে—গোসলের পর শরীর ভালোভাবে মুছে না নিলে আর্দ্রতা থেকে ব্যাকটেরিয়া বাড়ে। বিশেষ করে বগল, পা, এবং জেনিটাল এরিয়া ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।

তুলো এবং সিল্কের পোশাক পরুন

NIVEA এবং Thompson Tee-র পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাকৃতিক ফ্যাব্রিক যেমন তুলো এবং সিল্ক ব্যবহার করুন। এগুলো ত্বককে শ্বাস নিতে দেয় এবং ঘাম কম হয়। পলিয়েস্টার এবং রেয়ন এড়িয়ে চলুন—এগুলো আর্দ্রতা এবং ব্যাকটেরিয়া বাইরে ঠেলে দেয় এবং দুর্গন্ধ বাড়ায়।

খাবারে পরিবর্তন আনুন

Yoga Institute এবং NIVEA-র তথ্য অনুযায়ী, রসুন, পেঁয়াজ, ক্যাফিন, এবং মসলাদার খাবারে সালফার থাকে যা ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে দুর্গন্ধ তৈরি করে। এই খাবার কমিয়ে দিন এবং সবুজ শাকসবজি বাড়ান।

Medindia এবং Tata 1mg-এর গবেষণায় দেখা গেছে, পালংশাক, কেল, এবং সেলারিতে থাকা ক্লোরোফিল প্রাকৃতিক ডিওডোরাইজিং প্রভাব ফেলে এবং শরীরের দুর্গন্ধ কমায়।

বগলের চুল শেভ করুন

Tata 1mg এবং PharmEasy বলছে, বগলের চুল ঘাম এবং ব্যাকটেরিয়া আটকে রাখে। নিয়মিত শেভ করলে দুর্গন্ধ অনেক কমে যায়।

হাইড্রেটেড থাকুন

Practo-র মতে, প্রচুর পানি পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয় এবং ব্যাকটেরিয়া কম জন্মায়। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

স্ট্রেস কমান

Yoga Institute-এর তথ্য অনুযায়ী, স্ট্রেস এবং উদ্বেগ অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে যা গাঢ়, ফ্যাটি ঘাম তৈরি করে—যেটা সাধারণ ঘামের চেয়ে বেশি দুর্গন্ধযুক্ত। মেডিটেশন এবং যোগব্যায়াম করুন।

অতিরিক্ত ঘাম হয় যা দৈনন্দিন কাজে বাধা দেয় (কম্পিউটার, কলম ধরতে সমস্যা)
হঠাৎ শরীরের গন্ধ পরিবর্তন হয় (মিষ্টি, ভিনেগারের মতো, মাছের মতো)
রাতে খুব বেশি ঘাম হয়

তাহলে Hyperhidrosis বা অন্য কোনো মেডিকেল কন্ডিশন হতে পারে। ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
শেষ কথা
ঘামের দুর্গন্ধ এবং কালো ত্বক নিয়ে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই—এটা খুবই সাধারণ সমস্যা এবং সম্পূর্ণ সমাধানযোগ্য। এই ৫টি প্রাকৃতিক উপায় নিয়মিত মেনে চললে দুর্গন্ধ দূর হবে এবং ত্বক হবে উজ্জ্বল ও সুন্দর।
মনে রাখবেন, কেমিক্যাল-বেসড ডিওডোরেন্ট এবং অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। প্রকৃতির এই সহজ সমাধানগুলো নিরাপদ, কার্যকর, এবং সাশ্রয়ী। আজ থেকেই শুরু করুন—আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করুন!

সোর্স নোট: এই আর্টিকেলের তথ্য Medindia, PharmEasy (Dr. Arpit Verma), Netmeds, NIVEA India, Practo, Tata 1mg, Sanova Dermatology, Thompson Tee, Dettol, এবং The Yoga Institute থেকে নেওয়া হয়েছে। যেকোনো নতুন চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্ট বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Dipika Sorkar

Dipika Sorkar একজন Lifestyle Content Writer, যিনি দৈনন্দিন জীবনযাপন, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, ফ্যাশন, বিউটি টিপস এবং আধুনিক লাইফস্টাইল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। সহজ ও বাস্তবধর্মী ভাষায় পাঠকের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে—এমন কনটেন্ট তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now