JKNews24 Disk: দেশের শীর্ষ আদালত রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) জটিল পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। বুধবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে ভোটারের যোগ্যতা যাচাই করতে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) অ্যাডমিট কার্ডকে এখন থেকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি আধার কার্ডও ভোটার পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যা সাধারণ মানুষদের জন্য যাচাই প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।
আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে কোনো ভোটার জন্মতারিখ এবং অভিভাবকের নাম প্রমাণের জন্য মাধ্যমিক পাস সার্টিফিকেটের সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড জমা দিলে তা গ্রহণ করতে হবে। বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের মাত্র তিন দিন আগে এই নির্দেশ এসেছে।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিপুল এম. পাঞ্চোলি নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি.এস. নাইডুর আপত্তি শুনে এই ক্ল্যারিফিকেশন দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, “মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে জন্মতারিখ থাকে, পাস সার্টিফিকেটে তা উল্লেখ থাকে না। তাই দু’টো একসঙ্গে দিলে এটা সহায়ক হিসেবে থাকবে। ” এছাড়া আধার কার্ডকে পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যা আদালতের পুরনো নির্দেশ (সেপ্টেম্বর ২০২৫) অনুসারে বহাল রয়েছে।
রাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রায় ৮০ লক্ষ নথির অসঙ্গতি যাচাই বাকি থাকায় নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে কর্মরত ২৫০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের পক্ষে এই বিপুল কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব হওয়ায়, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তিন বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সিভিল জাজরাও এই কাজে যোগ দিতে পারবেন। এই সমস্ত আধিকারিকদের থাকা ও যাতায়াতের খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি কাজের গতি বাড়ানোর জন্য রাজ্যে কর্মরত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সব ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়াও শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা পড়া যে সমস্ত নথি এখনও সিস্টেমে আপলোড করা হয়নি, সেগুলি আগামী কাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার মধ্যে ‘প্রিসাইডিং জুডিশিয়াল অফিসার’দের হাতে তুলে দিতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ‘ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ (ERO) দের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়।
