Homeপশ্চিমবঙ্গLPG সরবরাহে বড় ধাক্কা, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে ৪ বছর

LPG সরবরাহে বড় ধাক্কা, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে ৪ বছর

জ্বালানি সংকটের রেশ এখনও কাটেনি, বরং Iran Israel Conflict-এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে—তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন রান্নাঘরে। অনেক জায়গায় LPG-এর ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, সঙ্গে তেলের বাজারেও চাপ বেড়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের খরচ বাড়ছেই। ভারতের মতো দেশ, যা এলপিজির জন্য অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই সংকট আরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। […]

- Advertisement -

জ্বালানি সংকটের রেশ এখনও কাটেনি, বরং Iran Israel Conflict-এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে—তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন রান্নাঘরে। অনেক জায়গায় LPG-এর ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, সঙ্গে তেলের বাজারেও চাপ বেড়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের খরচ বাড়ছেই। ভারতের মতো দেশ, যা এলপিজির জন্য অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই সংকট আরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই LPG Supply Chain Disruption স্বাভাবিক হতে অন্তত আরও ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগতে পারে, ফলে আপাতত স্বস্তির আশা খুব একটা নেই।

LPG-র সংকট বিশ্ব জুড়ে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে Iran Israel Conflict ঘিরে আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান সংঘাতের জেরে কার্যত দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ড্রোন ও মিসাইল হামলায় Qatar, Saudi Arabia এবং United Arab Emirates-এর একাধিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও রফতানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভারত যেহেতু এলপিজির চাহিদা মেটাতে পশ্চিম এশিয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল, তাই এই ধাক্কা সরাসরি দেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। তার উপর গ্যাস ও তেলবাহী জাহাজের চলাচল কমে যাওয়ায় আমদানি আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আধিকারিকদের মতে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এত বড় পরিকাঠামো মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে, ফলে এই সংকট দ্রুত কাটবে এমন আশা আপাতত কমই।

গ্যাসের আকাল চলতে পারে আরও ৪ বছর

সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, আর যুদ্ধের আগে পর্যন্ত এই আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসত Strait of Hormuz দিয়ে। Qatar, Saudi Arabia এবং Kuwait-এর মতো দেশগুলো ভারতের এলপিজি জোগানের প্রায় ৯২ শতাংশ পূরণ করে। কিন্তু চলমান Iran Israel Conflict-এর জেরে এই দেশগুলোর রফতানি ক্ষমতা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। ইরানের South Pars Gas Field এবং কাতারের North Field—যা বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত—সেখান থেকেই মূলত বিশ্বজুড়ে প্রোপেন ও বিউটেন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু একের পর এক হামলার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কার্যত থমকে গিয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগতে পারে।

আমাদের হোয়াটসঅ্যাপটেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

দাম বাড়বে গ্যাসের?

ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকটের আঁচ টের পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ, আর এর বড় কারণ পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা Iran Israel Conflict। গত মার্চের মাঝামাঝি থেকেই গৃহস্থালির LPG সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে, আর বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে সেই বৃদ্ধি গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৫ টাকায়। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কালোবাজারির প্রবণতাও, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি গ্যাসের জোগান আরও কমে যায়, তাহলে দামের ঊর্ধ্বগতি কোথায় গিয়ে থামবে তা আন্দাজ করাও কঠিন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। তাঁদের মতে, এখন এই সংকট কাটানো শুধু যুদ্ধ থামার ওপর নির্ভর করছে না, বরং ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্যাস পরিকাঠামো নতুন করে গড়ে তোলার ওপরও অনেকটাই নির্ভর করছে।

--Advertisement--
- Advertisement -
- Advertisement -

Breaking News

- Advertisement -

Related Stories

- Advertisement -