JKNews24 Disk: ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যত কাছে আসছে, ততই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠছে। জনসংযোগ বাড়াতে নেতা-মন্ত্রীরা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতেই রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নবান্নের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক হয়েছে, এবার রাজ্য সরকার সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে আলু কিনে তাদের আর্থিক সুরক্ষা দেবে (Nabanna)।
ভোটের আগে আলু চাষিদের স্বস্তি (Nabanna)
রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলু চাষের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের আলু উৎপাদনকারী কৃষকদের কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি না হয়—এই লক্ষ্যেই সরকার সরাসরি আলু কিনবে। প্রশাসন প্রতি কুইন্টাল আলু ৯৫০ টাকায় সংগ্রহ করবে, অর্থাৎ প্রতি কেজি আলু ৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে। পাশাপাশি বাজারে অভাবী বিক্রি রোধের জন্য সহায়ক মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ ৭০ বস্তা আলু কিনবে প্রশাসন
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য সরকার ১ মার্চ থেকে আলু কেনার প্রক্রিয়া শুরু করবে, যা চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়কালে চাষিদের নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র জমা দিয়ে আলু বিক্রি করতে হবে। আলু কেনা হবে হিমঘর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, এবং প্রয়োজনে চাষিরা ব্যাংক থেকে ঋণও নিতে পারবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রতি কৃষকের কাছ থেকে সর্বাধিক ৭০ বস্তা আলু কেনা হবে। মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ টন। রাজ্য প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগের ফলে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন এবং একই সঙ্গে বাজারে আলুর দামেও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রায় ৩১ হাজার টন আলু কেনা হয়েছিল, তবে এবার সেই পরিমাণ অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে—প্রায় ১২ লক্ষ টন আলু কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আলু চাষীদের সুবিধার জন্য কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থাতেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, কোল্ড স্টোরেজের ৩০% স্থান ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়াও সমস্ত ব্যবস্থা জেলাশাসকদের সরাসরি নজরদারিতে পরিচালিত হবে।
