JKNews24 Disk: ব্যাক্টেরিয়ার নাম শুনলেই আমাদের অনেকের মনে ভয় কাজ করে—এই বুঝি কোনও সংক্রমণ বা জটিল রোগ! কিন্তু বিজ্ঞান এখন সেই ধারণাকেই বদলে দিতে চাইছে। রোগজীবাণুকেই অস্ত্র বানিয়ে মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা চলছে। ঠিক যেন কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। গবেষকেরা এমনভাবে সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়াকে পরিবর্তিত করছেন, যাতে তা শরীরে ঢুকে সুস্থ কোষের ক্ষতি না করে সরাসরি টিউমার কোষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং একে একে সেগুলিকে ধ্বংস করে (Bacteria to Fight Cancer)। এই যুগান্তকারী গবেষণায় বড় ভূমিকা নিয়েছেন University of Waterloo-র বিজ্ঞানীরা, সহযোগিতা করেছেন Harvard University-এর গবেষকেরাও। ক্যানসার চিকিৎসায় এটি ভবিষ্যতে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্যানসার নিরাময়ের হাতিয়ার ব্যাক্টেরিয়া! (Bacteria to Fight Cancer)
ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপির কষ্টকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে বিকল্প পথ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, ইমিউনোথেরাপি, এমনকি ক্যানসারের টিকা—সব দিকেই গবেষণা চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসকে কাজে লাগিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে টিউমার ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চ্যালেঞ্জ একটাই—ব্যাক্টেরিয়া যাতে নিজের মতো আচরণ না করে, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই কাজ করে। এই কারণেই গবেষকেরা বিভিন্ন জীবাণু পরীক্ষা করে শেষ পর্যন্ত Clostridium sporogenes-কে বেছে নিয়েছেন। মাটিতে জন্মানো এই অ্যানেরোবিক ব্যাক্টেরিয়াটি অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে বৃদ্ধি পায়—যা টিউমারের ভেতরের পরিবেশের সঙ্গে মিলে যায়। বিজ্ঞানীরা জিনগত পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য ‘জেনেটিক সুইচ’ প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে একে তৈরি করছেন, যাতে নির্দিষ্ট সংকেত পেলেই এটি সক্রিয় হবে এবং কেবল টিউমার কোষেই আঘাত হানবে।
গবেষকেরা প্রথমে নির্বাচিত ব্যাক্টেরিয়াগুলিকে ল্যাবরেটরিতে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করেন। এরপর জিনগত প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া হয়, যাতে তারা শরীরে গিয়ে কোনও অনিয়ন্ত্রিত সংক্রমণ ঘটাতে না পারে। সেই ক্ষমতাচ্যুত ব্যাক্টেরিয়াগুলিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেখা যায়, তারা সরাসরি ক্যানসার কোষের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছতে সক্ষম হচ্ছে। কীভাবে? এখানে কাজে লাগানো হয়েছে Clostridium sporogenes-এর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। এই ব্যাক্টেরিয়া অক্সিজেনবিহীন পরিবেশ খুঁজে নেয়—আর টিউমারের ভেতরের অংশে ঠিক এমনই কম অক্সিজেনের পরিবেশ তৈরি হয়, কারণ দ্রুত কোষবৃদ্ধির ফলে সব কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে ব্যাক্টেরিয়াটি শরীরে ঢুকেই সেই অংশে গিয়ে জমা হয়। এরপর গবেষকদের নির্ধারিত নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় এটি ক্যানসার কোষের ভেতরেই বৃদ্ধি পেতে থাকে, যার ফলে টিউমার কোষ ভেঙে যায় এবং তাদের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন থেমে যেতে পারে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে ক্যানসারের পরীক্ষা পশুর শরীরে হয়েছে। মানুষের শরীরে তার প্রয়োগ শুরু করার অপেক্ষামাত্র। যদি এই প্রক্রিয়া নিরাপদে হতে পারে, তা হলে আগামী দিনে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যাক্টেরিয়াকেই হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া সহজ হবে বলে আশা রাখছেন গবেষকেরা।
