JKNews24 ডেস্ক: Philippines এখন ভারতের তৈরি সুপারসোনিক BrahMos missile-এর প্রতি আরও বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে এর অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে। জানা গেছে, Manila শুধু সেনাবাহিনীতেই নয়, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীসহ অন্যান্য সামরিক শাখাতেও এই মিসাইল মোতায়েন করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে তিনটি ব্রহ্মোস মিসাইল ব্যাটারি কেনে ফিলিপাইনস, আর এখন সেই সফল অভিজ্ঞতার পর দেশটি আরও অতিরিক্ত অর্ডার দেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
এতে ভারত বিশ্বের ডিফেন্স এক্সপোর্টার মানচিত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ব্রহ্মোস এখন ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে পরিচিত।ফিলিপাইনসের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল রোমিও এস ব্রাউনার সম্প্রতি দিল্লিতে রাইসিনা ডায়ালগে বলেছেন, ব্রহ্মোস কেনার পর তারা খুবই সন্তুষ্ট। এই মিসাইলের সফলতা দেখে তারা ভারতের সঙ্গে আরও বেশি ব্যবসা করতে চান।
Philippine Marine Corps-এর কোস্টাল ডিফেন্স রেজিমেন্টে প্রথম BrahMos missile ব্যাটারি ২০২৫ সালের শেষের দিকে অপারেশনাল হয়েছে Zambales এলাকায়, যা সরাসরি South China Sea-এর দিকে মুখ করে রয়েছে। এই মিসাইলের রেঞ্জ প্রায় ২৯০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার হওয়ায় Scarborough Shoal-এর মতো বিতর্কিত এলাকায় থাকা চীনা জাহাজগুলির ওপর এটি কার্যত বড় কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জানা গেছে, দ্বিতীয় ব্যাটারিটি ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালে ফিলিপাইনসে পৌঁছেছে, আর তৃতীয় ব্যাটারিটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসোনিক ক্রুজ মিসাইল BrahMos এখন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে বড় সাফল্য পাচ্ছে। এই সিস্টেমগুলো মোবাইল লঞ্চার দিয়ে সজ্জিত, ফলে সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত স্থানান্তর করা যায়। ম্যাক ৩ গতিতে উড়তে সক্ষম এই মিসাইলকে বিশ্বের দ্রুততম সুপারসোনিক ক্রুজ মিসাইলগুলোর একটি বলা হয়। এর ‘স্টেলার পারফরম্যান্স’ দেখে Philippine Army এখন আরও দুটি অতিরিক্ত ব্যাটারি অর্ডার করার পরিকল্পনা করছে। ল্যান্ড-বেসড মিসাইল সিস্টেম অ্যাকুইজিশন প্রজেক্টের অধীনে এগুলো কোস্টাল ডিফেন্সের পাশাপাশি ল্যান্ড-অ্যাটাক রোলেও ব্যবহার করা যাবে।
ফিলিপাইনস পরিকল্পনা করছে পালাওয়ান ও লুজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই মিসাইল মোতায়েন করতে, যাতে South China Sea অঞ্চলে চীনের তথাকথিত ‘গ্রে জোন’ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী লেয়ার্ড ডিফেন্স তৈরি করা যায়। শুধু সেনাবাহিনীই নয়, Philippine Navy এবং Philippine Air Force-ও ব্রহ্মোসের এয়ার-লঞ্চড ও শিপ-লঞ্চড সংস্করণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে সমুদ্রপথে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং পুরো আর্কিপেলাগো ডিফেন্স সিস্টেম অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
ভারতের জন্যও এটি বড় সাফল্য। ব্রহ্মোসের (BrahMos missile) প্রথম আন্তর্জাতিক রপ্তানি হয়েছিল ফিলিপাইনসে, আর এখন সেই সাফল্য দেখেই অন্যান্য দেশও আগ্রহ দেখাচ্ছে। জানা গেছে Indonesia ইতিমধ্যে চুক্তির পথে এগিয়েছে এবং Vietnam-ও আলোচনা চালাচ্ছে। এমনকি ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ফিলিপাইনসে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের প্রস্তাবও দিয়েছে, যাতে ব্রহ্মোসের পাশাপাশি Akash Missile System-এর মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানেই তৈরি করা যায়। এতে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি শিল্প দ্রুত শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, যদি ২০২৬ সালে ফিলিপাইনসের Horizon 3 Modernization Program-এর অধীনে ব্রহ্মোসের অতিরিক্ত অর্ডার আসে, তাহলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হবে। কারণ China-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে ফিলিপাইনস এখন শক্তিশালী ডিটারেন্স তৈরি করতে চাইছে। ব্রহ্মোসের গতি ও নির্ভুলতা চীনা যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করা হয়, কারণ এই মিসাইলকে আটকানো খুবই কঠিন। তাই ম্যানিলা এখন ভারতের সঙ্গে হেলিকপ্টার, সাবমেরিন এবং অন্যান্য উন্নত মিসাইল সিস্টেম নিয়েও আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
