২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে Mamata Banerjee নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় দলের অন্যতম প্রধান স্লোগান ছিল “বদলা নয়, বদল চাই”, যেখানে পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন শাসনব্যবস্থার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক মহলে বারবারই দেখা গেছে, ভোটের ময়দানে নানা সময়ে তৃণমূলের তরফে প্রতিপক্ষকে ঘিরে কড়া রাজনৈতিক বার্তা উঠে এসেছে। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির তারকা প্রচারক Himanta Biswa Sarma-এর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জলপাইগুড়ি সদরের মণ্ডলঘাটের সিপাই পাড়ায় ভোটপ্রচারে গিয়ে বিজেপির তারকা প্রচারক Himanta Biswa Sarma এক বক্তব্যে বলেন, “দিদি এখন ভাষণে আমার নাম নিতে শুরু করেছে। আমার নামেও মামলা হয়েছে। আমাকে একটা গুলি মারলে কী আমি চুপ করে থাকব। বিজেপিকে একটা গুলি চালালে আমি ২টো গুলি চালাব। বাংলায় থানা থাকলে অসমেও পুলিশ আছে। টক্কর হবে সমানে সমানে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন উসকানিমূলক মন্তব্য অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র Joyprakash Majumdar কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ওরা কী ভাবছে, যা খুশি তাই করবে?” ফলে এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এই মন্তব্যের চব্বিশ ঘণ্টা পর পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজার গ্রামে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারির সমর্থনে রোড শো করেন হিমন্ত। রোড শো শেষে তিনি মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মুখ খোলেন। বলেন, “কংগ্রেস, ডিএমকে আর তৃণমূল একত্রিত হয়ে এই বিল আটকে দিয়েছে। মহিলারা এর প্রতিশোধ নেবে। নারী স্বশক্তিকরণের বিলের বিরোধিতা করে দেশের মহিলাদের অপমান করেছে এরা। এর জবাব বাংলার মহিলারা ভোটে দেবেন।”
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক সভা থেকে বিজেপির তারকা প্রচারক Himanta Biswa Sarma বলেন, জয়ের বিষয়ে তিনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত এবং এরপর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্তব্য করেন যে “বাংলার সমস্ত গুন্ডাদের ২৯ তারিখের মধ্যে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে, না হলে বিজেপি কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পাল্টা জবাবে ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী Narendranath Chakraborty বলেন, এই ধরনের মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় ভোটে না পেরে অন্যভাবে আঘাত করার চেষ্টা করছে বিজেপি, পাশাপাশি তিনি অসমের পূর্ব প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং শেষে কটাক্ষ করে বলেন ২৯ তারিখের পর মিষ্টি খাওয়ার আমন্ত্রণ রইল। পুরো ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
