Homeদেশ ও বিদেশজাতীয় খবর (India News)ব্যাংকের টাকার জন্য কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে হাজির ভাই, চাঞ্চল্য ওড়িশায়

ব্যাংকের টাকার জন্য কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে হাজির ভাই, চাঞ্চল্য ওড়িশায়

একজন ব্যক্তি পুরোনো কাপড়ে মোড়া, পচাগলা একটি কঙ্কাল দুই হাতে শক্ত করে ধরে ব্যাংকের ভেতরে ঢুকলেন। কাউন্টারের সামনে এসে কঙ্কালটিকে রেখে তিনি হঠাৎ উত্তেজিত কণ্ঠে বলে উঠলেন, “আপনারাই তো আমার বোনকে দেখতে চেয়েছিলেন! এই দেখুন, আমার বোন… এবার ওর জমানো টাকাটা আমাকে দিন!”—তার এই অদ্ভুত আর ভয়ংকর দাবিতে পুরো ব্যাংকজুড়ে এক মুহূর্তের জন্য নেমে এল […]

- Advertisement -

একজন ব্যক্তি পুরোনো কাপড়ে মোড়া, পচাগলা একটি কঙ্কাল দুই হাতে শক্ত করে ধরে ব্যাংকের ভেতরে ঢুকলেন। কাউন্টারের সামনে এসে কঙ্কালটিকে রেখে তিনি হঠাৎ উত্তেজিত কণ্ঠে বলে উঠলেন, “আপনারাই তো আমার বোনকে দেখতে চেয়েছিলেন! এই দেখুন, আমার বোন… এবার ওর জমানো টাকাটা আমাকে দিন!”—তার এই অদ্ভুত আর ভয়ংকর দাবিতে পুরো ব্যাংকজুড়ে এক মুহূর্তের জন্য নেমে এল স্তব্ধতা।

কেন কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে আনা হলো

ওড়িশার কেঁওঝড় জেলায় এক অভাবনীয় ও হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো স্থানীয়রা। অভিযোগ অনুযায়ী, বোনের জমানো মাত্র ১৯ হাজার ৩০০ টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে না পেরে এক ব্যক্তি চরম হতাশায় কবর থেকে তাঁর দেহাবশেষ তুলে ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের মাল্লিপাসি শাখায় হাজির হন। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংবেদনশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

জিতু মুণ্ডার অভিযোগ ও দাবি

৫৩ বছর বয়সী জিতু মুণ্ডার বড় বোন কাকরা মুণ্ডা গত জানুয়ারিতে মারা যান। নিঃসন্তান কাকরা দেবী নিজের গবাদি পশু বিক্রি করে ধীরে ধীরে ব্যাংকে ১৯,৩০০ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যুর পর সেই টাকার একমাত্র উত্তরাধিকারী হন ভাই জিতু মুণ্ডা। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ ও কিছু ঋণের চাপ সামলাতে ওই অর্থ তুলতে তিনি গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছিলেন, কিন্তু সমাধান না মেলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

জিতুর দাবি অনুযায়ী, বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট ও আইনগত উত্তরাধিকার সনদপত্রের মতো নথিপত্র চেয়ে অনড় থাকে। এমনকি তিনি বোনের মৃত্যুর কথা জানালেও নাকি ব্যাংক থেকে বলা হয় গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত করতে হবে। দারিদ্র্য ও প্রয়োজনীয় নথি জোগাড়ে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশায় তিনি গত সোমবার বোনের কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে আনেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ সেই দেহাবশেষ বহন করে তিনি ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের মাল্লিপাসি শাখায় উপস্থিত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিতুকে শান্ত করে এবং কঙ্কালটি পুনরায় সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা করে।  ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে স্থানীয় প্রশাসন এখন বিশেষ ব্যবস্থায় জিতুকে তাঁর পাওনা টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

- Advertisement -
- Advertisement -

Breaking News

- Advertisement -

Related Stories

- Advertisement -