Alpha Movie 2026 | স্পাইভার্সের নতুন পরীক্ষা ‘আলফা’, কতটা জমল আলিয়ার অ্যাকশন?

-

যশরাজ ফিল্মসের (YRF) ‘স্পাইভার্স’-এর নতুন সংযোজন শিব রাওয়াইল পরিচালিত ‘আলফা’ (Alpha Movie 2026) মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই নারী গুপ্তচরকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবির থেকে অনেকেই নতুন ধরনের গল্প বলার আশা করেছিলেন। তবে একাংশের মতে, ছবিটি সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। বরং অতিরিক্ত দেশাত্মবোধ ও জিংগোইজমের ওপর জোর দেওয়ায় গল্পের নিজস্বতা অনেকটাই চাপা পড়েছে। সমালোচকদের দাবি, ছবির উপস্থাপনায় আদিত্য ধরের দেশাত্মবোধক অ্যাকশন সিনেমার প্রভাব এতটাই স্পষ্ট যে, অনেক জায়গায় ‘আলফা’কে মৌলিকের চেয়ে পরিচিত ফর্মুলার অনুসরণ বলেই মনে হয়েছে (Alpha Movie 2026 Review)।

আলিয়া ভাটের অভিনয় কতটা প্রভাব ফেলল?

ছবির গল্পের শুরু কার্গিল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। সেখানে কর্নেল বিক্রান্ত কাউল (অনিল কাপুর) এবং কর্নেল ফতেহ সিং লখাওয়াতের (ববি দেওল) হাত ধরে উঠে আসে ‘আলফা’ প্রজেক্টের ধারণা, যার লক্ষ্য ছিল সাধারণ সেনাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী যোদ্ধায় পরিণত করা। এই প্রকল্পের একমাত্র জীবিত শিশু সীতা (আলিয়া ভাট) বড় হয়ে এক দক্ষ ও ভয়ংকর গুপ্তঘাতকে পরিণত হয়। গল্পের এই ভিত্তি শুরুতে কৌতূহল তৈরি করলেও, এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে চিত্রনাট্যের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই তাড়াহুড়ো করে দেখানো হয়েছে, ফলে চরিত্রগুলোর আবেগ বা সংঘাত দর্শকের মনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। তাই এত বড় বাজেটের অ্যাকশন ছবির যে গভীরতা ও শক্তিশালী গল্প বলার প্রত্যাশা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি ‘আলফা’।

- Advertisement -

সীতার চরিত্রে আলিয়ার অভিনয় এবং স্টাইল লারা ক্রফটের অনুপ্রেরণায় তৈরি হলেও, চরিত্রের গভীরতার অভাব বারবার চোখে পড়ে। অন্যদিকে, দুর্গা হিসেবে শর্বরী ওয়াঘের উপস্থিতি কেবল প্রযোজকের নিরাপত্তাহীনতারই পরিচয় দেয়। সীতার নিহিলিজম বা শূন্যতাবোধ এবং দুর্গার আশাবাদের মধ্যকার সংঘাতটিকে অত্যন্ত ‘বাইনারি’ বা একঘেয়েভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও হৃত্বিক রোশনের বিশেষ উপস্থিতি এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ছবির সেরা অংশ, তবুও লড়াইয়ের দৃশ্যগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট শৈলী বা স্বকীয়তার অভাব ছিল।

অ্যাকশন, ভিএফএক্স ও সিনেমাটোগ্রাফি কতটা সফল?

ছবিটির সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে এর রাজনৈতিক উপস্থাপনাকে ঘিরে। অনেকের মতে, স্পাইভার্সের আগের ছবিগুলোর মতো ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির বদলে এখানে আইএসআই-কে ঘিরে একপাক্ষিক উপস্থাপনা এবং অতিরিক্ত দেশাত্মবোধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা গল্পের স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করেছে। কিছু সংলাপে ‘পাকিস্তানি ফৌজি’ শব্দের ব্যবহারও অপ্রয়োজনীয়ভাবে আক্রমণাত্মক বলে মনে হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের উপস্থাপনা বর্তমান রাজনৈতিক আবহের প্রতিফলন হলেও, তা ছবির গল্প ও চরিত্রের গভীরতাকে শক্তিশালী করার বদলে মূল আকর্ষণকে অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে।

- Advertisement -

‘আলফা’ কি দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে?

পরিচালক শিব রাওয়াইলের কাজে অনেক সমালোচকের চোখে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে দুই নারী প্রধান চরিত্রকে ঘিরে নির্মিত অ্যাকশন দৃশ্যগুলিতে নতুনত্বের বদলে পরিচিত বাণিজ্যিক ফর্মুলার প্রভাবই বেশি চোখে পড়ে। ‘গার্ল পাওয়ার’-কে কেন্দ্র করে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলার সুযোগ থাকলেও, ছবিটি সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। অ্যাকশন কোরিওগ্রাফির বেশ কিছু অংশও দর্শকদের কাছে চেনা বলিউডি ধাঁচের বলে মনে হতে পারে। ফলে আদিত্য চোপড়া ও শ্রীধর রাঘবনের এই নতুন উদ্যোগ দর্শকদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একাংশের সমালোচকের মতে, স্পাইভার্সের নিজস্ব বিনোদনধর্মী পরিচয়ের বদলে অতিরিক্ত জিংগোইজমের দিকে ঝুঁকে পড়ায় ছবিটি তার স্বকীয়তা কিছুটা হারিয়েছে। সব মিলিয়ে ‘আলফা’কে কেউ কেউ তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য বললেও, গল্প ও উপস্থাপনায় যে ঘাটতি রয়ে গেছে, তা ছবির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News