পুকুরে মিলবে ইলিশ! স্বাদ অটুট রাখতে কাকদ্বীপে জোরকদমে গবেষণা

-

বাঙালির প্রিয় ইলিশকে এবার পুকুরে চাষের মাধ্যমে উৎপাদনের চেষ্টা চলছে, আর সেই লক্ষ্যেই কাকদ্বীপে জোরকদমে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে ইলিশ যেহেতু একটি পরিযায়ী মাছ, তাই পুকুরে সফলভাবে চাষ করতে বিশেষ ধরনের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। গবেষকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে আরও অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। তবে শুধু চাষে সফল হওয়াই নয়, ইলিশের আসল স্বাদ ও গুণগত মান যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়েই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পুকুরে চাষ হলেও বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইলিশের স্বাদ যেন কোনোভাবেই বদলে না যায়।

কাকদ্বীপে কীভাবে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ জলব্যবস্থা?

পুকুরে ইলিশ চাষের গবেষণায় ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রথম পাঁচটি ধাপে সফলতা মিলেছে এবং এখন কাকদ্বীপের কেন্দ্রীয় নোনা জলজীব পালন অনুসন্ধান সংস্থায় শেষ অর্থাৎ ষষ্ঠ ধাপের গবেষণা শুরু হয়েছে। ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্রের উপযোগী একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বা সিস্টেমও তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পুকুরে এই পরিযায়ী মাছের সফল চাষ সম্ভব কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

- Advertisement -

কেন ইলিশের জন্য মিষ্টি ও নোনা জলের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে?

ইলিশ একটি পরিযায়ী মাছ, যা সাধারণত মিষ্টি জলে ডিম পাড়ে এবং বড় হওয়ার পর সমুদ্রে চলে যায়। সেই স্বাভাবিক জীবনচক্রের অনুকরণেই কাকদ্বীপে গবেষকরা একটি বিশেষ প্রবাহমান জলব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যেখানে মিষ্টি জল, আংশিক নোনা জল এবং সম্পূর্ণ নোনা জলের পৃথক স্তর রয়েছে। এই সিস্টেমে জল স্থির নয়, বরং প্রবাহমান রাখা হয়েছে, যাতে ইলিশের স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করা যায়। গবেষকরা ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থায় ইলিশ ছেড়েছেন এবং এখন পর্যবেক্ষণ করছেন মাছগুলি সেখানে ডিম পাড়ে কি না। আইসিএআর-সিবার কাকদ্বীপ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ড. দেবাশীষ দে জানান, এই বিষয়টিই এখন গবেষণার মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে, আইসিএআর-সিবার অধিকর্তা ড. কুলদীপ কে. লাল বলেছেন, গবেষণার প্রথম পাঁচটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ষষ্ঠ তথা শেষ ধাপের কাজ চলছে। এই ধাপ সফল হলেই ভবিষ্যতে পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ চাষের পথ খুলে যেতে পারে। পুকুরে ইলিশ চাষের শুরু আজ থেকে নয়। দশ বছর আগে থেকে কাকদ্বীপের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নানা পরীক্ষা চালিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ৯৮২ গ্রামের ইলিশ পুকুরে চাষ করা গেছে। তবে সাফল্য আসবে তখনই যদি ডিম থেকে পোনা ফোটানো সম্ভব হ

- Advertisement -

পুকুরে ইলিশ চাষে কতদূর এগোল গবেষণা?

পুকুরে ইলিশ চাষকে সফল করতে এখন গবেষণার শেষ ধাপের কাজ চলছে। এই প্রকল্পে ইলিশের প্রাকৃতিক বাসস্থানকে যতটা সম্ভব অনুকরণ করার চেষ্টা করেছেন বিজ্ঞানীরা। সে জন্য পরিবেশগত নানা বিষয় মাথায় রেখে তিনটি পৃথক পাতকুয়ায় তিন ধরনের জল—মিষ্টি, আংশিক নোনা ও নোনা—রাখা হয়েছে। বৈদ্যুতিক পাম্পের সাহায্যে সেই জলকে প্রবাহমান রাখা হচ্ছে, যাতে নদী ও সমুদ্রের স্বাভাবিক স্রোতের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। পাশাপাশি জলের তাপমাত্রা, দূষণের মাত্রা এবং স্রোতের গতি নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে ইলিশের পোনা ছাড়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ার ফলাফল জানতে প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি চালাতে হবে।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News