পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তর ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে যাঁরা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, তাঁদের সকলের আবেদন নতুন করে ভেরিফিকেশন (Verification), র্যাশনালাইজেশন (Rationalization) এবং রিভ্যালিডেশন (Revalidation) করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপভোক্তাদের তথ্য ও নথি যাচাই করে প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত যোগ্য কৃষকদের কাছেই পৌঁছে দেওয়া হবে।
রাজ্যের প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছেই কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমান উপভোক্তাদের তথ্য PM-KISAN ডাটাবেস, আধার, ভোটার কার্ড, জমির নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, আয়কর সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি চাকরি বা পেনশন সংক্রান্ত রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এই যাচাইয়ের ভিত্তিতেই কৃষি দপ্তর নির্ধারণ করবে কারা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং কারা অযোগ্য।
কেন এই কৃষক বন্ধু নগুন প্রকল্পের ভেরিফিকেশন?
নোটিশ অনুযায়ী, কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ যাচাই অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপভোক্তাদের তথ্য ও নথি পুনরায় পরীক্ষা করে প্রকল্পের সুবিধা সঠিক ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে কৃষি দপ্তর।
সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী জানা গেছে
যাচাই প্রক্রিয়ায় উপভোক্তাদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে PM-KISAN ডাটাবেসের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা, আধার নম্বর ও ভোটার কার্ড (EPIC) যাচাই, জমির রেকর্ড পরীক্ষা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ও NPCI ভ্যালিডেশন, আবেদনকারী আয়করদাতা কিনা তা যাচাই, সরকারি চাকরি বা সরকারি পেনশন পান কি না তা পরীক্ষা এবং একই ব্যক্তির নামে একাধিক বা ডুপ্লিকেট আবেদন রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
মাঠ পর্যায়ে কী হবে?
যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে উপভোক্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই সময় উপভোক্তার নাম, স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য, আধার নম্বর, ভোটার কার্ড (EPIC) নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং জমির তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হবে। এরপর এই তথ্য সরকারি বিভিন্ন ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করবে কৃষি দপ্তর।
কোন কোন নথি জমা দিতে হবে ফর্মের সাথে?
ভেরিফিকেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথির ফটোকপি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে উপভোক্তার আধার কার্ড, বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর আধার কার্ড, উপভোক্তার ভোটার কার্ড, বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর ভোটার কার্ড, জমির ROR (Record of Rights) বা স্বত্ব রেকর্ডের কপি, উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা পাসবুকের কপি এবং বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা পাসবুকের কপিও প্রয়োজন হতে পারে।
