JKNews24 Disk: স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। সকালে অ্যালার্ম থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে রিলস স্ক্রল করা—ফোন এখন আমাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু মাঝেমধ্যেই ইন্টারনেটে বা হোয়াটসঅ্যাপে একটা আতঙ্ক ছড়ানো খবর চোখে পড়ে: “বেশি ফোন ব্যবহার করলে ব্রেইন ক্যানসার হতে পারে!”
আসলেই কি তাই? আমাদের প্রিয় গ্যাজেটটি কি আমাদের অজান্তেই মাথার ভেতর টিউমার তৈরি করছে? একজন এসইও (SEO) বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি আজ বিজ্ঞানের লজিক আর সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে এই রহস্যের জট খুলব। চলুন দেখি বিজ্ঞান কী বলছে।
মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন আসলে কী?
ফোন যখন নেটওয়ার্কের সাথে যোগাযোগ করে, তখন এটি এক ধরণের ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি’ (RF) বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ নির্গত করে। এখানেই মানুষের মনে ভয়ের জন্ম। কিন্তু ভয়ের আগে একটু বিজ্ঞানটা বুঝে নেওয়া জরুরি।
রেডিয়েশন মূলত দুই ধরণের হয়:
- আয়নাইজিং রেডিয়েশন: যেমন এক্স-রে বা গামা-রে। এগুলো কোষের DNA নষ্ট করতে পারে এবং ক্যানসার ঘটাতে পারে।
- নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন: মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন এই ক্যাটাগরির। এতে শক্তি এতই কম যে এটি আপনার কোষের ক্ষতি বা DNA পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না।
বিজ্ঞান ও গবেষণা কী বলছে?
মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মস্তিষ্কের ক্যানসার বা অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে—এই ধারণাটি অনেকের মনে ভয় ধরিয়েছিল। তবে, সেই আশঙ্কার অবসান ঘটিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তারা একটি বিস্তৃত গবেষণা চালিয়েছে, এবং ফলস্বরূপ জানা গেছে যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্যানসার বা মাথা ও গলার ক্যানসারের কোনো সুস্পষ্ট সম্পর্ক নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল(Mobile Phone) ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কের ক্যানসার বাড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আসলে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের সাথে ক্যানসারের কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক নেই। এই গবেষণাপত্রটি ‘এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা এই বিষয়ে নতুন করে নিশ্চিততা দিয়েছে।
এই গবেষণায় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছিল তাদের উপর, যাদের পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে কথা বলতে হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৬৩টি গবেষণার রিপোর্ট একত্রিত করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদলে ছিল ১০টি দেশের ১১ জন বিশেষজ্ঞ, এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘রেডিয়েশন প্রোটেকশন অথরিটি’ও এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিল। এর মাধ্যমে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের সাথে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে একটি সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে।
গবেষক দলের একজন সদস্য, নিউ জিল্যান্ডের ‘ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ড’-এর ক্যানসার বিশেষজ্ঞ মার্ক এলউড জানিয়েছেন, তারা নানা দিক খতিয়ে দেখেছেন এবং কোনো ক্ষেত্রেই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, ছোটদের শরীরেও মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। মস্তিষ্কের ক্যানসার, পিটুইটারি গ্ল্যান্ড, স্যালাইভারি গ্ল্যান্ডে ক্যানসার, অথবা লিউকেমিয়ার মতো কোনো ঝুঁকি নেই।
অবশ্যই পড়ুন: ঘামের গন্ধে লজ্জা? ফিটকিরিতে ঘামের গন্ধ দূর হবে?
গবেষণায় যুক্ত দুই বিজ্ঞানী, সারা লোগার্ন ও কেন কারিপিডিস তাঁদের জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্টে লিখেছেন, ‘ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। মোবাইল ফোন খুব সামান্য মাত্রার রেডিয়ো তরঙ্গ বিকিরণ করে, যা একেবারেই বিপজ্জনক নয়। মানুষের শরীরস্বাস্থ্যে এর কোনো প্রভাব পড়ার প্রশ্নই ওঠে না।
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) একটি গবেষণা চালিয়েছিল, যার রিপোর্টে বলা হয়েছিল মোবাইল ফোন ব্যবহারের সাথে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে সেই সময় আরও গবেষণার প্রয়োজন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন রিপোর্টটি আগের গবেষণার ফলাফলকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে।
স্মার্টফোন ব্যবহারের কিছু নিরাপদ অভ্যাস
ক্যানসার হোক বা না হোক, ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে চোখের সমস্যা, ঘাড় ব্যথা বা অনিদ্রা তো হতেই পারে। তাই সুরক্ষার জন্য এই টিপসগুলো ফলো করতে পারেন:
- স্পিকার বা হেডফোন ব্যবহার: ফোন সরাসরি কানের কাছে না ধরে হেডফোন ব্যবহার করলে রেডিয়েশন এক্সপোজার অনেক কমে যায়।
- সিগন্যাল দুর্বল হলে এড়িয়ে চলুন: ফোনের সিগন্যাল যখন দুর্বল থাকে, তখন ফোন নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য বেশি রেডিয়েশন ছড়ায়। তাই তখন দীর্ঘক্ষণ কথা না বলাই ভালো।
- ঘুমানোর সময় দূরত্ব: বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। অন্তত ৩-৪ ফুট দূরে ফোন রাখুন।
- টেক্সট মেসেজ: লম্বা কথা বলার বদলে জরুরি কাজ টেক্সটে সেরে নেওয়া ভালো।