JKNews24 Desk: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে রয়েছে হাওড়ার বহুচর্চিত বামনগাছি রেল ব্রিজ (Bamangachi Railway Bridge), আর তার জেরেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে বাসচালক ও কন্ডাক্টররা। গত কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় রেল সেতুর নির্মাণকাজ চলায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ বাস রুট বন্ধ রয়েছে, ফলে প্রতিদিনই যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়ছেন মানুষ। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার কোনও সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ চরমে ওঠে বাস মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে। অবশেষে সোমবার সকালে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা—হ্যাঁ, একেবারেই ঠিক শুনেছেন।
হাওড়ায় রেল সেতুর কাজের জন্য বন্ধ ৪টি রুটের বাস রুট
প্রশাসনের নির্দেশে বামনগাছি রেল ব্রিজ দিয়ে চারটি রুটের সমস্ত বাস চলাচল দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। বিকল্প হিসেবে কিছু বাস রুট ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও বাস মালিকদের অভিযোগ, এতে যাত্রী সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গেছে, ফলে আয় প্রায় নেই বললেই চলে। শুধু মালিকরাই নন, চালক ও কন্ডাক্টররাও পড়েছেন তীব্র আর্থিক সংকটে। এক বাস মালিক গৌতম পাইন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাস চালাতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও রাতের অন্ধকারে পুলিশের মদতে ওই ব্রিজ দিয়েই ভারী মালবাহী লরি চলাচল করছে। তাঁর প্রশ্ন, “যদি লরি যেতে পারে, তাহলে বাস চলাচলে বাধা কোথায়?”
একই সুরে অভিযোগ তুলেছেন আরেক বাস মালিক রাখাল নন্দী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, অবিলম্বে ওই রাস্তায় বাস চলাচলের অনুমতি না মিললে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। বাস চালক সমর মাইতি বলেন, বাস বন্ধ থাকায় তাঁদের রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। অথচ তাঁদের অভিযোগ, রাতের বেলায় টাকার বিনিময়ে মালবাহী গাড়ি পার হতে দেওয়া হচ্ছে। বাস চালক ও কর্মচারীদের দাবি, প্রশাসনের এই দ্বিচারী নীতির কারণেই তাঁরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। আর বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়ছেন নিত্যযাত্রীরাই।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া এবং নিম্নবিত্ত মানুষদের দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। স্থানীয় এক স্কুলছাত্রী জানায়, আগে যেখানে বাসে যাতায়াত করতে মাত্র ১০ টাকা লাগত, এখন সেখানে অটো বা কাটা সার্ভিসে যেতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। তার কথায়, “প্রতিদিন এত টাকা দিয়ে যাতায়াত করা আমাদের পক্ষে সত্যিই খুব কঠিন।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই পরিস্থিতিতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, রেলের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না—কবে বামুনগাছির নতুন ব্রিজ চালু হবে। নির্মাণকাজের গতি অত্যন্ত ধীর হলেও পুরোনো ব্রিজে গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কাজকর্ম, পড়াশোনা ও চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতেই নিত্যদিন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে। যদিও আপাতত অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে বাস মালিক, চালক ও সাধারণ মানুষের দাবি একটাই—হয় দ্রুত বামুনগাছি রেলব্রিজের কাজ শেষ করতে হবে, নয়তো নিয়ন্ত্রিত ভাবে বাস চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মুখ খুলল পুলিশ
এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানান, “বিষয়টি নিয়ে আমরা পূর্ব রেলের সঙ্গে কথা বলব এবং কোনও সমাধানসূত্র বের করা যায় কি না, তা দেখা হবে। তবে ওই পুরনো ও সঙ্কীর্ণ সেতু দিয়ে বাস চলাচলে যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।”
