JKNews24 Disk: ভোটের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল Arambagh। ‘যুব সাথী’ ও ভূমিহীনদের আবেদনপত্র জমা দেওয়া নিয়ে বিডিও অফিস চত্বরে শুরু হয় তীব্র ভিড় ও ধস্তাধস্তি, যার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র উদ্যোগে চালু হওয়া ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে এপ্রিল থেকে মাসে ১৫০০ টাকা করে আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে দেওয়ার ঘোষণা ঘিরেই এই ভিড় বলে জানা যাচ্ছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে “ভাতার রাজনীতি” বলে কটাক্ষ শুরু করেছে, আর শাসক শিবিরের দাবি—যোগ্য উপভোক্তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে আরামবাগে রাজনৈতিক চাপান-উতোর তুঙ্গে।
ফর্ম তোলা নিয়ে চরম বিক্ষোভ আরামবাগে
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ সোমবার, হুগলির আরামবাগের বিডিও অফিস চত্বরে ‘যুব সাথী’ এবং ভূমিহীনদের ফর্ম তোলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের ভিড় দেখা গিয়েছে। শুরু হয় ফর্ম নিয়ে কাড়াকাড়ি, ধস্তাধস্তি, চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। বাধ্য হয়ে স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়দানে নামে। কিন্তু পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে পড়ে। শেষে বাধ্য হয়ে ঘটনাস্থলে যান আরামবাগ থানার IC রাকেশ রোসিম। সঙ্গে করে নিয়ে যান বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ। ঘটনার জেরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি অনেকেই ফর্ম না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান।
পরিস্থিতি নামতে মাঠে নামল IC রাকেশ রোসিম
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়নি। ওয়ার্ডভিত্তিকভাবে ফর্ম বিলি করার কোনও পরিকল্পনা না থাকায় একসঙ্গে সকলকে ফর্ম দেওয়া হচ্ছিল, অথচ কাউন্টারও বাড়ানো হয়নি। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষজনের ভিড়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি হয় বিডিও অফিস চত্বরে, এমনটাই দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। পরে Arambagh Police Station-এর আইসি রাকেশ রোসিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং সকলকে অনলাইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন। অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজনকে দ্রুত নিকটবর্তী চিকিৎসালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোটের মুখে রাজ্যজুড়ে শুরু হল বেকার ভাতার ফর্ম বিলি। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় খোলা হয়েছে ‘বাংলার যুব সাথী’ ক্যাম্প। ২০২৬ সালের এই নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘বাংলার যুব সাথী’ নামে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ন্যূনতম মাধ্যমিক উত্তীর্ণরা। প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে এই ‘বেকার ভাতা’ পাওয়া যাবে ৫ বছরের জন্য। প্রথমে অগাস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হওয়ার কথা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন দেড় হাজার টাকা ‘বেকার ভাতা’ পৌঁছে দেওয়া হবে ১ এপ্রিল থেকেই।
