JKNews24 ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, পাশাপাশি বহু ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘Under Adjudication’ অর্থাৎ বিচারাধীন অবস্থায় রেখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফুঁসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গিয়েছে। এমনকি এই ইস্যুকেই সামনে রেখে আজ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে Mamata Banerjee কলকাতার Metro Channel এলাকায় ধর্না ও অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ভোটার তালিকাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে এবার দায় চাপানো হয়েছে প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তালিকা সংশোধনের কাজের সময় একাধিক স্তরে গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে খবর, বুথ লেভেল অফিসার (BLO), অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO), ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) থেকে শুরু করে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ত্রুটির ফলেই বহু ভোটারের নাম বাদ পড়া বা ‘Under Adjudication’ অবস্থায় থেকে যাওয়ার মতো সমস্যা সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে এবং বিরোধী দলগুলো বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনাও শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারকে রাখা হয়েছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায়। মূলত ভোটারদের তথ্যের অমিল বা তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণেই এত বড় সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
কমিশনের দাবি, মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাইয়ের সময় বুথ লেভেল অফিসারদের উদাসীনতা এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের অসংবেদনশীল মনোভাবই এই বিপুল সংখ্যক ভোটার নাম বাদ পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া প্রশাসনিক স্তরে পর্যাপ্ত নজরদারি ও সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে যে কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে অনেক ক্ষেত্রেই আধিকারিকরা কাজ করেননি। এর ফলে বহু ভোটারের তথ্য সঠিকভাবে আপলোড করা হয়নি এবং নথিপত্র যাচাই প্রক্রিয়াতেও ত্রুটি থেকে গেছে। সেই কারণেই অনেক যোগ্য ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
