JKNews24 Disk: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর প্রতিটা উৎসব মানেই জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। ‘বিরিয়ানি’ শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে খাসি বা মুরগির মাংস আর সেই চেনা আলু। কিন্তু এই জেন-জি’র যুগে একটু এক্সপেরিমেন্ট করলে ক্ষতি কী? একবার সাহস করে ভেটকি মাছের বিরিয়ানি ট্রাই করেই দেখুন না (Fish Tikka Biriyani Recipe)! অনেকেই হয়তো বলবেন, “মাছ দিয়ে বিরিয়ানি নাকি? ও তো পোলাও!” কিন্তু ঠিকঠাক রেসিপি আর ভালো মানের ভেটকি বেছে নিলে বিরিয়ানির সেই শাহি আমেজ একটুও কমে না। বরং যারা রেড মিট এড়িয়ে একটু হালকা, কিন্তু স্বাদে রাজকীয় কিছু খুঁজছেন, তাদের জন্য ভেটকি বিরিয়ানি হতে পারে একদম পারফেক্ট চয়েস।
Table of Contents
অবশ্যই পড়ুন: {{post_title link:post}}
ভেটকি মাছের বিরিয়ানি কি জন্য পারফেক্ট?
১. কাঁটা কম: ভেটকি মাছে অন্যান্য বাংলা মাছের তুলনায় কাঁটা অনেক কম এবং বড় কাঁটা—সহজে তুলে ফেলা যায়।
২. মাংসের মতো টেক্সচার: ভেটকি মাছের স্বাদ এবং টেক্সচার মাছের চেয়ে মাংসের কাছাকাছি—তাই বিরিয়ানিতে একদম মানায়।
৩. ভাঙে না: রান্নার সময় ভেটকি মাছ ভেঙে পড়ে না—ফিলেট বা পিস গোটাই থাকে।
৪. সহজলভ্য: বাজারে সহজে পাওয়া যায় এবং দাম মাঝারি।
অবশ্যই পড়ুন: {{post_title link:post}}
ভেটকি মাছের বিরিয়ানি কেন (Fish Tikka Biriyani Recipe)
দেখুন, ইলিশ বিরিয়ানি অবশ্যই বাংলাদেশের গর্ব, কিন্তু সেটা তো সিজনাল ব্যাপার। আর ভেটকি? আসলে এটি ব্যারামুন্ডি বা Lates calcarifer—ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর এক দারুণ মাছ। পুষ্টিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১৩ গ্রাম ভেটকিতে প্রায় ৬৫০ মিলিগ্রাম ওমেগা-৩ থাকে, যা হার্ট ভালো রাখতে ও শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। প্রোটিনও থাকে প্রতি সার্ভিংয়ে প্রায় ২১–২৩ গ্রাম, ক্যালরিও তুলনামূলক কম। অন্যদিকে বাসা মাছ বা পাঙ্গাস একটু সাশ্রয়ী, স্বাদে মাইল্ড—অনেক রেস্তরাঁয় ভেটকির বদলে সেটাই ব্যবহার হয়। এবার একটু হালকা হিউমার—মাংস খেয়ে খেয়ে যদি পেট ভারী লাগে, তাহলে একবার ফিশ টিক্কা বিরিয়ানি ট্রাই করে দেখুন! পরের দিন অফিসে ঘুম পাবে না, বরং বেশ ঝরঝরে এনার্জি নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
একটি নিখুঁত ভেটকি মাছের বিরিয়ানি বানাতে আপনার যা যা লাগবে:
- প্রধান উপকরণ: ৫০০ গ্রাম ভেটকি বা বাসা মাছের কিউব (ফিলে)।
- চাল: ভালো মানের লং গ্রেন বাসমতি চাল (কমপক্ষে ৩০ মিনিট ভেজানো)।
- মশলাপাতি: শাহী গরম মশলা, বিরিয়ানি মশলা, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো।
- সুগন্ধি: জাফরান মিশ্রিত দুধ, কেওড়া জল এবং সামান্য মিঠা আতর।
- অন্যান্য: বেরেস্তা (ভাজা পেঁয়াজ), ঘি এবং টক দই।
অবশ্যই পড়ুন: {{post_title link:post}}
রান্না করুন ভেটকি মাছের বিরিয়ানি
প্রথমে মাছ ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে একেবারে শুকনো করে নিন। তারপর লেবুর রস, নুন, আদা-রসুন বাটা, লঙ্কা-ধনে-জিরে গুঁড়ো আর সামান্য সরষের তেল মেখে অন্তত ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন—আমি বলব, এই সময়টা আরামে এক কাপ চা খেয়ে নিন, ধৈর্য ধরলে কিন্তু স্বাদ সত্যিই দ্বিগুণ হয়! এরপর ননস্টিক কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে মাছ উল্টে-পাল্টে সেঁকে নিন, চাইলে স্কিউয়ারে গেঁথে হালকা পুড়িয়ে টিক্কা লুকও দিতে পারেন—বাইরে হালকা ক্রিস্পি, ভেতরে জুসি হলে বুঝবেন ঠিকঠাক হচ্ছে। এদিকে চাল ধুয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে গরম জলে গোটা গরম মশলা দিয়ে ৮০% সেদ্ধ করুন, জল ঝরিয়ে ঠান্ডা করে রাখুন যাতে ভাত ঝরঝরে থাকে।
এবার গ্রেভির পালা—কড়াইয়ে ঘি গরম করে পেঁয়াজ সোনালি করে ভেজে কিছু বেরেস্তা তুলে রাখুন, বাকিটায় আদা-রসুন, টমেটো আর লঙ্কা দিয়ে কষান যতক্ষণ না তেল ছেড়ে দেয়, তারপর মাছের টিক্কা দিয়ে ২–৩ মিনিট ফুটিয়ে নিলেই দারুণ গন্ধে রান্নাঘর ভরে যাবে। সবশেষে বড় হাঁড়িতে প্রথমে মাছের কাই, তার ওপর চালের স্তর, মাছের টুকরো ছড়িয়ে বিরিয়ানি মশলা আর ঘি দিন, আবার চাল দিন, উপর থেকে গোলাপ-কেওড়া জল, কেশর ভেজানো দুধ আর বেরেস্তা ছড়িয়ে ঢাকনা বন্ধ করে একেবারে কম আঁচে ১০–১৫ মিনিট দমে বসান—এই লেয়ারিংয়ের ম্যাজিকেই তৈরি হবে অসাধারণ ফিশ টিক্কা বিরিয়ানি!
