নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় দু’মাস পর অবশেষে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গত ৪ মে ভবানীপুর কেন্দ্রের বহুল আলোচিত লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয়ের পর থেকেই দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও তিক্ততা নিয়ে জোর আলোচনা চলছিল। তবে শনিবার প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বার্তা দেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘ নীরবতার পর এই শুভেচ্ছাবার্তা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
শনিবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “যিনি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আমার অনেক শুভেচ্ছা থাকবে।” তবে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মন্ত্রী ছিলেন—সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, “আপনিও প্রায় ১০-১১ বছর তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হিসাবে মন্ত্রী ছিলেন। কখনও পরিবহণমন্ত্রী, কখনও সেচমন্ত্রী। কখনও ৬টি জেলার দায়িত্বে ছিলেন। জেলা পরিষদ, গ্রামসভা, পঞ্চায়েত তৈরিতে সাহায্য করেছেন। সাহায্যের হাতও বাড়িয়েছেন, সাহায্যের হাতও নাড়িয়েছেন। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ, দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ—সবটাই তো আমাদের সরকার আপনাদের দিয়ে চালিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে পরাজয় প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি ফের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, বিজেপি ভোট লুটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছে, তা সর্বজনবিদিত। একটা নতুন সরকার যে ভাবেই হোক এসেছে। তারা কাজ করুক।” তবে এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একইসঙ্গে তিনি নতুন সরকারের উদ্দেশে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, রাজ্যের মানুষের স্বার্থে তারা যেন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে।
তবে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সন্ত্রাস আর প্রতিহিংসা দিয়ে বেশিদিন শাসন হয় না। মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি রাজ্যের বর্তমান সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেওয়ারও আহ্বান জানান। দীর্ঘ দু’মাস পর মমতার এই অবস্থান বদল কি নিছকই সৌজন্য, নাকি বিরোধী নেত্রী হিসেবে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা—তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
