একটি কৃষিজমির কুয়োর মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টা আটকে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেন এক প্রৌঢ়া। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সাহায্যের জন্য লড়াই করলেও কেউ তাঁর উপস্থিতির কথা জানতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের নজরে আসতেই তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। টানা ২১ ঘণ্টা কুয়োর ভিতরে বেঁচে থাকার ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তবে আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, তিনি কীভাবে কুয়োর মধ্যে পড়লেন। উদ্ধার হওয়ার পর প্রৌঢ়া যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা শুনে পুলিশও বিস্মিত হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।
কীভাবে কুয়োর মধ্যে পড়লেন ওই মহিলা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৫৫-র ওই মহিলা জানিয়েছেন যে, এক ২১ বছর বয়সী তরুণ তাঁকে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। দিনমজুর হিসেবে কাজ করা ওই মহিলা অতিরিক্ত কাজের আশায় তাঁর কথায় বিশ্বাস করেন। অভিযোগ, প্রথমে একটি বুক করা বাইকে তাঁকে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ওই তরুণ তাঁকে নিজের মোটরবাইকে তুলে এমন একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে মানুষের যাতায়াত প্রায় নেই এবং কোনও সিসিটিভি ক্যামেরাও ছিল না। এরপর কী ঘটেছিল, তা জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
২১ ঘণ্টা কীভাবে প্রাণে বেঁচে ছিলেন তিনি?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্ত ওই মহিলার পরনে থাকা সোনা ও রুপোর গয়না ছিনিয়ে নেয়। অভিযোগ, এরপর পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে পাশের একটি কৃষিকাজে ব্যবহৃত কুয়োর মধ্যে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। কুয়োতে পড়ে গিয়েও মহিলা বাঁচার জন্য একটি দড়ি ধরে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, অভিযুক্ত তা দেখে ওপর থেকে সেই দড়িটিও কেটে দেয়, যাতে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা না থাকে। তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও ওই মহিলা দীর্ঘ সময় প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যান।
কীভাবে উদ্ধার করলেন গ্রামবাসীরা?
কুয়োয় পড়ে যাওয়ার পর ওই মহিলা দীর্ঘক্ষণ জলের মধ্যে প্রাণ বাঁচানোর জন্য লড়াই চালিয়ে যান। অভিযোগ, কুয়ো থেকে জল তোলার পাম্পের একটি ঝুলন্ত তার আঁকড়ে ধরেই তিনি নিজেকে ভাসিয়ে রাখেন। একটানা সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও নির্জন এলাকায় মানুষের যাতায়াত না থাকায় তাঁর আওয়াজ কারও কানে পৌঁছায়নি। অবশেষে একটি রাত কেটে যাওয়ার পর পরদিন কাছাকাছি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা তাঁর ডাক শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে যাওয়া ওই মহিলার বয়ান শুনে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে বাইক বুকিংয়ের তথ্যের সূত্র ধরে অভিযুক্ত ২১ বছর বয়সী যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলার নাস্তুলাপুর গ্রামের কাছে।
