কুসুম দাস, কলকাতাঃ গর্ভকালীন সেবা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সময়ে হাড়, মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও স্নায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার কারণে মাকে শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি মানসিক চাপও সহ্য করতে হয়। আবার গর্ভাবস্থায় ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন একটি কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে পিঠ, কোমর বা পায়ে ব্যথার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয় তিন মাসে হাত ও আঙুলে ঝিঁঝিঁ ধরা, অবশভাব এবং বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ব্যথার সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম তিন মাসের এসব সমস্যা পরবর্তী সময়েও থেকে যেতে পারে এবং দ্বিতীয় বা তৃতীয় তিন মাসে আরও বাড়তে পারে।
গর্ভাবস্থায় শরীরে ব্যথা ও স্নায়ুর সমস্যা কারণ
গর্ভাবস্থা আনন্দের হলেও এই সময়ে পেটে ব্যথা নিয়ে অনেক গর্ভবতী মায়ের উদ্বেগ তৈরি হয়। কিছু ক্ষেত্রে পেটে হালকা ব্যথা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথা কখনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই ব্যথার কারণ বুঝে কীভাবে তা সামলাতে হবে এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, তা জানা মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যথার সাধারণ কারণ
গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যথার একটি সাধারণ কারণ হলো গোলাকার লিগামেন্টে টান পড়া। জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে এই লিগামেন্ট প্রসারিত হওয়ায় পেটের এক বা দুই পাশে তীক্ষ্ণ ব্যথা হতে পারে, বিশেষ করে হঠাৎ অবস্থান বদলালে, কাশি বা হাঁচি দিলে। এছাড়া হরমোনের পরিবর্তন ও বড় হতে থাকা জরায়ুর চাপে কোষ্ঠকাঠিন্যও পেটে ব্যথার কারণ হতে পারে।
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ব্যথা ও স্নায়ুর সমস্যা সমাধান
গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা সপ্তাহে ৫ দিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটাও উপকারী। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি, ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার ও আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ৬–৮ ঘণ্টা রাতের ঘুম জরুরি। ভারী কাজ ও অতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক চাপ এড়িয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সঠিক দেহভঙ্গি মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস করলে শরীরের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
