সেরা দশ পশ্চিমবঙ্গ ভারত আন্তর্জাতিক বিনোদন খেলা ব্যবসা টাকা পয়সা চাকরি টেক অফবিট আবহাওয়া জ্যোতিষ সোনার দাম অন্যান্য

প্রথম পাতা /  / পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা: জানুন এই ফলের অসাধারণ গুণাগুণ 

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা: জানুন এই ফলের অসাধারণ গুণাগুণ

Published: February 15, 2026 2:40 AM
Follow Us:
Google News icon
পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা
---Advertisement---

JKNews24 Bangla Disk: শীতকালে পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা: পেয়ারাকে বলা হয় ‘গরিবের আপেল’। তবে মজার ব্যাপার হলো, পুষ্টির বিচারে এটি অনেক সময় দামি আপেলকেও টেক্কা দেয়। যারা ডায়েট বা স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন, তাদের কাছে পেয়ারা একটি বিশ্বস্ত নাম। কিন্তু আপনি কি জানেন, একটি মাঝারি আকারের পেয়ারাতে একটি কমলার চেয়ে চারগুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে? হ্যাঁ, এটি কোনো বানানো কথা নয়, বরং পুষ্টিবিজ্ঞানের প্রমাণিত সত্য। আজ আমরা আলোচনা করব পেয়ারা খাওয়ার এমন কিছু জাদুকরী উপকারিতা নিয়ে।

পেয়ারার পুষ্টিগুণ: একনজরে

Healthline এবং WebMD-এর পুষ্টি তালিকা অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কাঁচা পেয়ারায় থাকে:

  • ক্যালোরি: ৬৮ (খুবই কম!)
  • ভিটামিন সি: দৈনিক চাহিদার ১৩৯%—কমলার চেয়ে বেশি!
  • ফাইবার: ৫.৪ গ্রাম (দৈনিক চাহিদার ১২%)
  • পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ, ফোলেট এবং আরও অনেক মিনারেল

পেয়ারা কী এবং কোথায় পাওয়া যায়?

পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidium guajava, Myrtaceae পরিবারের অন্তর্গত। এটা আসলে একটা বেরি (berry) যার দুই ধরনের মাংস আছে—সাদা এবং গোলাপি। Star Health-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের ৪৫ শতাংশেরও বেশি পেয়ারা উৎপাদন করে—যা প্রমাণ করে এটা আমাদের দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ ফল। পেয়ারার উৎপত্তি মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আমেরিকায়, কিন্তু ১৬ শতকে পর্তুগিজ এবং স্প্যানিশরা এটা ভারত এবং এশিয়ায় নিয়ে আসে। ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে পেয়ারা চাষ হচ্ছে!

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে পেয়ারার জাদু

আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি শক্তিশালী না হয়, তবে ছোটখাটো ঋতু পরিবর্তনও আমাদের কাবু করে দেয়। পেয়ারা এখানে আপনার বডিগার্ড হিসেবে কাজ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

---Advertisement---

২. হজমের গোলমাল? পেয়ারা আছে তো!

বাঙালি আর পেটের সমস্যা—এ যেন এক চিরস্থায়ী সম্পর্ক। তবে এই সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে পেয়ারার বীজে এবং আঁশে। পেয়ারা হলো ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশের চমৎকার উৎস।

  • এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
  • হজম প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে।

৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক বন্ধু

আপনার কি মিষ্টি খাওয়ার খুব নেশা কিন্তু সুগারের ভয়ে হাত দিতে পারছেন না? তাহলে পেয়ারা আপনার জন্য আদর্শ। পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশ কম, যার মানে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দেয় না। এছাড়া পেয়ারার আঁশ সুগার শোষণ ধীর করে দেয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

---Advertisement---

৪. হৃদযন্ত্রের যত্ন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

আজকাল হার্টের সমস্যা ঘরে ঘরে। পেয়ারাতে থাকা পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে আপনার হৃদযন্ত্র থাকে সচল এবং চনমনে।

৫. চোখের জ্যোতি এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা

আমরা সবাই চাই আয়নার সামনে দাঁড়ালে ত্বকটা যেন একটু চকচকে দেখায়। পেয়ারাতে থাকা ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে, এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বার্ধক্যজনিত বলিরেখা দূর করে ত্বককে রাখে সজীব। তাই দামী স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের পেছনে খরচ না করে দিনে একটা পেয়ারা খেয়ে দেখতে পারেন!

একদিনে কয়টি পেয়ারা খাওয়া যাবে?

শীতকালে প্রতিদিন একটি পেয়ারা খাওয়া যথেষ্ট। এটি খাওয়ার সময় একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে—পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। অতিরিক্ত পেয়ারা খেলে পেট ফাঁপা বা পেটে ব্যথার মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই, সব সময় পরিমিতভাবে খাওয়া ভালো, যাতে এর পুষ্টিগুণ উপভোগ করা যায়, কিন্তু শরীরের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।

শীতকালে পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

শীতকালে সর্দি, কাশি এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়, যা অনেক সময় ওষুধ ছাড়া ঠিক হয় না। তবে পেয়ারা এই সমস্যার একটি প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে। পেয়ারায় থাকা প্রচুর ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রামক রোগগুলো দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে পেয়ারা খাওয়া শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকর। এটি শুধু রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে না, বরং শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে। তাই, শীতকালের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা অবশ্যই রাখা উচিত।

শীতকালে ঠান্ডার কারণে অনেকেই ব্যায়াম করা বাদ দেন, যার ফলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে পেয়ারা এই সমস্যার সমাধানে খুবই কার্যকর। এতে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। পেয়ারায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে, যা শরীরকে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া, এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করে। তাই, শীতকালে পেয়ারা খাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ উপকারী।

শীতকালে পেয়ারা খেলে আপনার হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়ক হতে পারে। পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম রক্তনালীগুলিকে শিথিল করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও, এতে থাকা ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, যা আপনার হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। তাই, শীতকালে পেয়ারা খাওয়া শুধু স্বাদে নয়, হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখার জন্যও দারুণ এক পছন্দ।

শীতকালে অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, তবে পেয়ারা খাওয়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য খুবই উপকারী। পেয়ারায় থাকা পুষ্টিগুণ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং নিয়মিত খাওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এছাড়া, পেয়ারা কম ক্যালোরি এবং উচ্চ ফাইবারের কারণে তা শরীরের জন্যও উপকারী, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। তাই, শীতকালে পেয়ারা আপনার স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য একটি ভালো বিকল্প।

পেয়ারা খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

যেকোনো ভালো জিনিসেরই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার খারাপ হতে পারে। পেয়ারা খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

  1. খালি পেটে এড়িয়ে চলুন: অনেকের খালি পেটে টক বা অম্লজাতীয় ফল খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই দুপুরের খাবারের পর বা বিকালের নাস্তায় এটি সেরা।
  2. পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন: রাস্তার ধারের কাটা পেয়ারা না খেয়ে আস্ত পেয়ারা কিনে বাড়িতে ভালো করে ধুয়ে খাওয়া নিরাপদ।
  3. লবণ-মরিচ কম: আমরা পেয়ারা মাখিয়ে খেতে ভালোবাসি, কিন্তু অতিরিক্ত লবণ আপনার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক স্বাদে খাওয়ার চেষ্টা করুন।

শেষ কথা

পেয়ারা কেবল একটি সস্তা ফল নয়, এটি প্রকৃতির দেওয়া একটি ‘মাল্টি-ভিটামিন’ প্যাকেজ। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে নিজেকে ফিট রাখতে এই দেশি ফলটির কোনো বিকল্প নেই। তাই আজই বাজার থেকে এক ব্যাগ তাজা পেয়ারা নিয়ে আসুন আর সুস্থতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যান।

---Advertisement---

Dipika Sorkar

Dipika Sorkar একজন Lifestyle Content Writer, যিনি দৈনন্দিন জীবনযাপন, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, ফ্যাশন, বিউটি টিপস এবং আধুনিক লাইফস্টাইল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। সহজ ও বাস্তবধর্মী ভাষায় পাঠকের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে—এমন কনটেন্ট তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

---Advertisement---

Leave a Comment